আলোর চেয়েও দ্রুত চলে গেলো দুর্গা পুজোর চারটে দিন।
উৎসবের অবসান। আবার কাজে ফেরার পালা । তবু বুকের মধ্যেকার থেকে সব না পাওয়া কে ঠেলে বের করে দেওয়া ঢাকের গুড়গুড় থামতে চায়না কিছুতেই । সকাল বিকেল হুল্লোড় আর ভালো লাগা, ভালো থাকার আবেশ টা যেন নষ্টালজিক করে দেয় এইমাত্র যে মুহূর্ত টা পেরিয়ে এলাম তার জন্য। যতই কাজে মন বসানোর চেষ্টা করি, পুজোর চারটে দিনের ছোট ছোট মুহূর্ত কোলাজ বার বার ভিড় করে মনে। আর অদ্ভুত একটা ভালো লাগার মন খারাপে ভরিয়ে দেয় মন।এই হাসিমুখ আর মুহূর্ত জড়ো করতে আরও এক বছরের অপেক্ষা ।
থিকথিকে ভিড়ে রাস্তায় হাঁটা আর ভেঁপুর কর্কশ প্যাঁ, প্রেমিকা প্রতিবাদ করলে বলে ১০ টাকা দিয়ে কিনেছি, একটু বাজাবো না? কুমোরটুলি পার্ক থেকে বেরিয়ে নির্জন গঙ্গার ধারে ভাঙ্গা ঘাটের যেখানে বটগাছের ডালটা অনেকটা নুইয়ে পরেছে, মেরুন পাঞ্জাবি সিগারেটের কাউন্টার বাড়িয়ে দেয় নীল শাড়িকে, আর জড়িয়ে ধরে ইতিউতি দেখে চুমু খায় কপালে। মধ্যবিত্ত ছোট্ট পরিবার বাস এর পিছনে ছোটে তল্পিতল্পা নিয়ে, লিস্টের সব কটা ঠাকুর দেখে ফেলতে হবে যে ! বাবা ছেলেকে বাসে তুলে বউকে তোলার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। ঠাকুর দেখতে দেখতে হাঁপিয়ে গিয়ে রাস্তার ধারে বসেই সেরে নেয় রাতের খাওয়া। বাড়ি থেকে আনা লুচি, তরকারি আর মিষ্টি খেতে খেতেই খুদের মনে প্রশ্ন জাগে, আর কটা ঠাকুর দেখব বাবা? বাবা তখন মনে মনে দিকনির্ণয় করে বলেন, এই তো এই পাঁচটা ঠাকুর দেখলেই আজ নর্থ কমপ্লিট! খুদের মন ভরে ওঠে, মনে মনে তৈরি হয়ে যায় বন্ধুদের গল্প বলার রসদ। পা টা চলছেনা তবু নর্থ টা আজ কমপ্লিট করতেই হবে। বাঁশের ব্যারিকেডের মধ্যে থিকথিকে মানুষের ভিড়ে বাবা ঘাড়ের উপর তুলে নেয় খুদেকে, প্যান্ডেল আরও অনেক দূর। বৃদ্ধ দম্পতি রিকশা করে ঠাকুর দেখতে গিয়ে অনেক বড় লাইন দেখে যখন ফিরে যাওয়ার উপক্রম, তরুণ volunteer চেঁচিয়ে ওঠে, দিদা এইদিক দিয়ে আসুন। আপনাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
এই সব মুহূর্তগুলো জড়ো করলে একটা সুন্দর, সুস্থ পৃথিবীর ম্যাপ তৈরী হয়। তাই আপনার অবাঙালি বন্ধুরা যখন প্রচন্ড বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করবে, দুর্গাপুজো নিয়ে এতো উন্মাদনার কি আছে, আপনার কাছে অস্ত্র হলো এই ম্যাপ। শুধু ‘রাসগুল্লা রাসগুল্লা আর আমি তুমাকে ভালোবাসি ‘ বলে বাঙালিকে নাগালে পাওয়া যায়না। পুজোর শেষের হ্যাংওভার নিয়ে শুরু করুন প্রথম কাজের দিন টা। ভালো থাকুন, কাজে থাকুন। আর মনে মনে প্ল্যান ভাজুন, এই বছর যা যা আনন্দ বাদ পড়েছে, পরের বছর কিভাবে পুষিয়ে নেবেন ! ইচ্ছাপূরণের গল্পরা শেষ হয়না , তাই “আসছে বছর আবার হবে!”
শুভ বিজয়া !